তিনি যদিও কাওমী মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন তবে পাশাপাশি আলিম শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন এবং পরে কলিকাতা আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষা জীবনের সমাপ্তি ঘটান। কর্ম জীবনে বরিশাল জেলার উজিরপুর গ্রামে একটি হাই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে তার দায়িত্ব পালন করেন। বরিশালে থাকাকালীন শেরে বাংলা এ.কে ফজলুল হক তাঁর কাছে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করেন। অতঃপর আলাদাদপুর গ্রামে হাই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু পরে তা বিলুপ্ত হয়ে যায়। অতঃপর চন্দ্রগঞ্জ পশ্চিম বাজার সংলগ্ন দীঘির উত্তর পাড়ে একটি দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তৎকালীন জমিদারদের মতানৈক্যের কারণে সেটি স্থানান্তর করে বেগমগঞ্জ উপজেলার বর্তমান ১নং আমানুল্লাহপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামে মাদ্রাসা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। যেটি বর্তমানে চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজারে অবস্থিত। উহাই চন্দ্রগঞ্জ কারামাতিয়া কামিল মাদ্রাসা নামে বর্তমানে সু-পরিচিত। অত্র মাদ্রাসার উত্তরপূর্ব কোণে একটি মসজিদ স্থাপন ও থাকার জন্য আবাসন ব্যবস্থা করা হয়। সেই মসজিদটি ২০০১ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। বর্তমানে তা ভেঙ্গে নতুন আঙ্গিকে দ্বিতল ভবন বিশিষ্ট একটি বৃহৎ মসজিদ নির্মাণ করা হয় । যাতে একসাথে ৫০০০ (পাঁচ হাজার) লোক নামাজ পড়তে পারবে। মসজিদের উত্তর পশ্চিম কোণে বুড়া হুজুর (রহ:) ও তাঁর তিন ছেলে ও এক নাতির কবর অবস্থিত যা একসময় লোকের জিয়ারতের নামে পূজার মত করত। বর্তমানে সম্পূর্ণ বেদায়াত মুক্ত ভাবেরয়েছে। উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ সাধক মাও: কারামত আলী জৈনপুরীর (র:) শিষ্য প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় স্বীয় শায়খ মহোদয়ের নামানুসারে অত্র দ্বীনি প্রতিষ্ঠানের সাথে “কারামতিয়া” শব্দটি সংযোজন করেন। ফলে স্থানের নাম ও শায়খের নামের সংমিশ্রণে অত্র মাদরাসার নাম রাখা হয় চন্দ্রগঞ্জ কারামতিয়া মাদ্রাসা। সর্বোচ্চ কামিল শ্রেণীতে উন্নীত হয়ে বর্তমানে এর নাম হয়েছে চন্দ্রগঞ্জ কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসা। প্রতিষ্ঠাকাল হতে যদিও দাখিল পর্যায়ে পরিচালিত হয় কিন্তু কাল-পরস্পরায় ১৯৫২ সালে আলিম, ১৯৬৭ সালে ফাজিল ও ১৯৮৬ সালে কামিল পর্যায়ে উন্নীত হয়। যদিও ১৯৮৬ সালে কামিল চালু করা হয়েছিল কিন্তু ১৯৯০ সালের পর হতে তথা বর্তমান অধ্যক্ষ মহোদয়ের কার্যভার গ্রহণের পর হতেই তাঁরই বলিষ্ট পদক্ষেপ, নিরলস্ প্রচেষ্টা ও সুদক্ষ পরিচালনা এবং সুযোগ্য ত্যাগী শিক্ষক মন্ডলীর দূর্লভ সহযোগীতা ও • ঐকান্তিকতাপূর্ণ পরিচালনা পর্ষদের সু-চিন্তিত পরামর্শে মাদ্রাসার লেখাপড়া সহ সার্বিক ক্ষেত্রে অভতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯০ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যেমনি শিক্ষার অগ্রগতির পাশাপাশি মাদরাসার একাডেমিক ভবনের ও বিস্তার ঘটেছে। নির্মিত হচ্ছ বহুতল বিশিষ্ট নতুন একাডেমিক ভবন। আর শোভা বর্ধন করছে নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক গাছ-গাছালি। শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগতির প্রমাণ স্বরপ ১৯৯০ সাল হতে ২০০২ সাল পর্যন্ত প্রায় শতাধিক জন ছাত্র মেধাতালিকা প্রাপ্ত হয়। আর প্রথম বিভাগ/শ্রেণী প্রাপ্তদের সংখ্যা হচ্ছে সাড়া জোগানো পর্যায়ের। পাশের হারও শতকরা ১০০%। অত্র মাদরাসার শিক্ষকের সংখ্যা ২৬জন, কর্মচারীর সংখ্যা ৬ জন এবং মোট ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা সর্বত্র পড়া-লেখা ও পরীক্ষায় অনিয়ম, দায়িত্ব আদান-প্রদান ও প্রতিপালনে প্রতারণা ও অসহযোগ, নকল প্রবণতার সয়লাব, লেবাস -পোষাক ও আচার-আচরণে কলুষতাপূর্ণ পরিবেশ ও পরিস্থিতির এ চরম দূর্দশা গ্রন্থকালে প্রত্যুৎপন্নমতি বর্তমান অধ্যক্ষ মহোদয়ের যোগ্যতর নেতৃত্ব ও বিজ্ঞান সম্মত নির্দেশনায় ক্লাশে ও পরীক্ষায় ১০০% উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, আন্তরিক সহযোগিতাপূর্ণ দায়িত্বপরায়ণ প্রশাসনিক কর্মতৎপরতা সম্পূর্ণ নকল মুক্ত আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন পদ্ধতির (যেমন- টিউটরিয়াল, সিমেষ্টার, সাপ্তাহিক/মাসিক ও বাৎসরিক পরীক্ষা সমূহের কার্যকরী ব্যবস্থাপনা এবং পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় পরীক্ষাসমূহে নকল উচ্ছেদের আন্তরিক উদ্যোগ | গ্রহণ, সুন্নতী তরিকায় বেশ-ভূষা ও আচার ব্যবহারে অভ্যস্থ করে গড়ে তোলার প্রয়াস, নিয়মিত সাপ্তাহিক যিকির, মাসিক কিয়ামুল লাইল ও বার্ষিক তাফসীর/ সীরাত মাহফিলের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতির ব্যবস্থাপনা, বাধ্যতামূলকভাবে নিয়মিত অধ্যয়ন ও অনুশীলনের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস্তব যোগ্যতা অর্জন ও উন্নত মানের ফলাফল লাভের আয়োজন, ব্যয়বহুল ছাত্রাবাস ও এতিমখানার ব্যবস্থা, তাছাড়া মাদরাসার আর্থিক ও অবকাঠামোর ক্ষেত্রে আশাতীত উৎকর্ষ সাধন ইত্যাদি সব মিলিয়ে এক অভাবনীয় সফল বিপ্লব। সাধিত হয়েছে।.....
বিস্তারিত